Graphic Tablet: গ্রাফিক ডিজাইনারদের অপরিহার্য একটি ডিভাইস

আপনি ফটোশপ, ইলাষ্ট্রেটর, ফ্লাশ, পেইন্টার যে সফটঅয়্যারই ব্যবহার করুন না কেন, গ্রাফিক ডিজাইনার, ডিজিটাল পেইন্টার, এনিমেটর যাই হোন না কেন, আপনাকে মাউস ব্যবহার করে এমন কিছু কাজ করতে হয় যা মাউসের জন্য সুবিধেজনক না। কলম, পেনসিল বা তুলি ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ পান না। একাজের জন্যই গ্রাফিক ট্যাবলেট। এর দুটি অংশ, একটি অংশকে স্লেট বা কাগজের সাথে তুলনা করতে পারেন, আরেকটি ষ্টাইলাস নামের কলম বা পেনসিলের মত অংশ। এদুটি কাগজে যেভাবে ছবি আকেন সেভাবে ছবি আকা যায়। বিভিন্ন ধরনের গ্রাফিক ট্যাবলেট এবং তাদের সুবিধে-অসুবিধের কথা জেনে নিন। গ্রাফিক ট্যাবলেটের সুবিধে ছোটবেলায় সবাইকেই কমবেশি ছবি আকা শিখতে হয়। প্রথমে পেনসিল দিয়ে, পরে রংতুলি দিয়ে। পরবর্তীতে যখন কম্পিউটারে ছবি আকতে যান তখন আপনার হাতে থাকে মাউস। অবশ্যই আপনি মাউসকে পেনসিলের মত সহজে ধরতে পারেন না, সেভাবে স্বাচ্ছন্দে নাড়াচাড়া করতে পারেন না। ষ্টাইলাস যেহেতু সাধারন কলমের মত, একে ব্যবহার করতে পারেন খুব সহজে। পেনসিল দিয়ে আকার সময় আপনি কখনো জোরে চান দেন, কখনো আস্তে। ফল হিসেবে কখনো পান মোটা, গাঢ় দাগ, কখনো চিকন এবং হাল্কা। মাউস ব্যবহার করে আপনি একাজ করতে পারেন না। গ্রাফিক ট্যাবলেটের আরেক নাম প্রেসার সেনসিটিভ ট্যাবলেট। এটা ব্যবহারের সময়ও আপনি যত চাপ দেবেন দাগ তত গাঢ় এবং মোটা হবে। কাজেই খুব সহজেই পরিবর্তশীল লাইন আকতে পারেন। আপনি কাজের সময় শুধুমাত্র কিবোর্ড কিংবা শুধুমাত্র মাউস ব্যবহার করে কাজ করতে পারেন না। দুটিই ব্যবহার করতে হয়। মাউস ক্লিক করার সময় কখনো কন্টোল-অলট ইত্যাদি কি চেপে ধরতে হয়। মাউসে লেফট ক্লিক-রাইট ক্লিক করার বিষয় রয়েছে। কাজেই মনে হতে পারে এই দুটির সাথে নতুন আরেকটি যন্ত্র যোগ করলে ব্যবহার আরো জটিল হবে। বাস্তবে ষ্টাইলাসের সাথে লেফট ক্লিক–রাইট ক্লিক করার জন্য বাটন রয়েছে। এটা সরানোর সাথেসাথে মাউস পয়েন্টার সরে। কাজেই এটা দিয়েই মাউসের সমস্ত কাজ করা যায়। আর ট্যাবলেটে রয়েছে আরো কিছু বাটন যেগুলি কন্ট্রোল-অল্ট কি এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এমনকি ফটোশপের মত বিশেষ সফটঅয়্যারের কিছু কাজ করার জন্যও কি রয়েছে। এরপরও অনেকে ৩টি যন্ত্রই ব্যবহার করেন। অসুবিধে একেবারেই নেই একথা বলা যায় না। আপনি যখন কাগজে ছবি আকেন তখন আপনার দৃষ্টি থাকে হাত এবং কাগজের দিকে। আর গ্রাফিক ট্যাবলেট ব্যবহার করেন তখন আপনাকে তাকিয়ে থাকতে হয় মনিটরের দিকে। এতে অভ্যস্থ হতেও কিছুটা সময় নেয়। শুনে অবাক হতে পারেন অনেক প্রথাগত শিল্পী বর্তমানে ছবি আকেন পুরোপুরি ডিজিটাল মাধ্যমে। ডিজনী ষ্টুডিওতে বর্তমানে কাগজে ছবি আকার প্রচলন নেই। নানা ধরনের ট্যাবলেট গ্রাফিক ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে ওয়াকম (wacom) একটি বিশাল নাম। নানা মাপের নানা ধরনের গ্রাফিক ট্যাবলেট তারা তৈরী করে। একসময় ডানহাতি-বামহাতিদের জন্য পৃথক ট্যাবলেট বিক্রি করা হত। তাদের নতুন মডেল ইনটুওস ৪ মডেল এমনভাবে তৈরী সেটা ঘুরিয়ে দুদিকেই ব্যবহার করা যায় (বিশ্বে বাহাতির সংখ্যা খুব কম না)। ৬-৮ ইঞ্চি ট্যাবলেট আপনার পেশাগত প্রয়োজন মেটাতে পারে। তাদের আরো ছোট এবং কমদামের ব্যাম্বু পেন/ব্যাম্বু টাচ এন্ড পেন নামের গ্রাফিক ট্যাবলেট রয়েছে। সিনটিক (Cintiq) নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে যেখানে ট্যাবলেটের ওপরই মনিটরের দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে কাজ করা যায় কাগজে আকার মতই। জিনিয়াস সহ আরো অন্যান্য কোম্পানীর তৈরী গ্রাফিক ট্যাবলেট পাওয়া যায়। তবে বিষয়কে সরল রাখার জন্য সংক্ষিপ্ত করছি। পেশাদার কাজের জন্য ওয়াকম ইনটুওস ৪, সৌখিন কাজের জন্য ছোট আকারের ওয়াকম ব্যাম্বু। কিভাবে ব্যবহার করবেন উদাহরন হিসেবে ইনটুওস এর কথাই ধরা যাক। কোনটি ইউএসবি পোর্টে লাগাতে হয়, সম্প্রতি এর অয়্যারলেস ভার্শন বাজারে ছাড়া হয়েছে। যদি ইউএসবি পোর্টের ডিভাইস হয় তাহলে ইউএসবি পোর্টে সংযোগ দিন। এরসাথে দেয়া সফটঅয়্যার ড্রাইভার ইনষ্টল করুন। উইন্ডোজ (অথবা অন্য অপারেটিং সিষ্টেম) একে মাউসের মত ব্যবহার করবে। যে সফটঅয়্যারে ব্যবহার করবেন (যেমন ফটোশপ কিংবা থ্রিডি এনিমেশন সফটঅয়্যার মোডো) তার সেটিং এ গিয়ে বলে দিন কোথায় কতটুকু পরিবর্তন চান। যেমন ফটোশপে বলে দিতে পারেন লাইন আকার সময় চাপ দিলে লাইন মোটা হবে, নাকি গাঢ় হবে, নাকি দুটোই হবে। এরপর আপনার কাজ যেমন সহজ হবে তেমনি কাজের মানও হবে উন্নত।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment