এক মিনিটের গল্প- গরুর মগজ

পুরো হলরুমে উৎসুক শ্রোতার পীনপতন নীরবতা। অবসরপ্রাপ্ত বিখ্যাত শল্যচিকিৎসক আজ তার কী এমন গোপন কীর্তির কথা বলবেন। তিনি ধীরপায়ে মন্চে এসে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করলেন। রোগী তখন অপারেশন বেডে।দেখি মাথার ভিতর মগজ বলতে কিছুই নাই। বসে চিন্তা করছি কি করা যায়। একটু ফ্রেশ হওয়ার জন্য নীচে নেমে পত্রিকার পাতায় চোখ আটকে গেলো। আমেরিকার বিখ্যাত এক শল্য চিকিৎসকের সাফল্যের কথা। বিকলাঙগ হিসাবে জন্ম নেয়া এক শিশু উনার চিকিৎসায় কিভাবে পরবর্তীতে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হলো। পড়ছি আর ভাবছি।আহা! আমাদের দেশেও কি এরকম গুনী,মেধাবী কোনো চিকিৎসক নেই। কাজের ছেলেকে গিন্নী বলেছিলো-কিছু তাজা গরুর মগজ নিয়ে যেতে। অনেকদিন মগজ বোনা খাওয়া হয়নি।আর ফিরার সময় আমাকে রাতের খাবার হসপিটালে পৌঁছে দিতে। কাজের ছেলে ওপরে এসে দেখে আমি নাই। আমার খুঁজে অপারেশন রুমে আসলো। ঠিক সেই সময় ব্ল্যাকআউট। বেচারা তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে ভুল করে খাবার আর গরুর মগজ অপারেশন টেবিলের পাশে রেখেই চলে গেলো। এমন সময় বিদ্যুৎ এলে ওপর থেকে নতুন যোগদেয়া জুনিয়র ডাক্তার ফোন করে বললো-স্যার, আপনি কি ওপরে আসবেন। নাকি বাকি কাজটুকু আমিই শেষ করবো। চিন্তা করলাম, আর ওপরে গিয়ে লাভ কি? নীচে যখন নেমেছি আজ তখন বাসায়ই চলে যাই। বললাম, হ্যাঁ। তুমিই করে ফেলো। কয়েকসপ্তাহ পর দেখি রোগী পুরোপুরি সুস্হ। তবে আচরণ একবারে গরুর মতো। বেশীর ভাগ কথা হাম্বা হাম্বা মনে হয়। কথা বললে মুখ দিয়ে বের হয় গোবরের গন্ধ। এরকমতো হওয়ার কথা না। মনে সন্দেহ হলো। যা মনে করেছিলাম তাই হয়েছে। কিন্তু নিজে ফেঁসে যাবো বলে কাউকে কিছু বলতেও পারছিনা। তবে আজকে শল্য চিকিৎসার সাফল্যের ২৫ বছর পূর্তিতে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমার চিকিৎসা জীবনের সবচেয়ে বড় এই গোপন কৃতিত্বের কথা না বললে নিজেকে বড় অপরাধি মনে হবে। কিন্তু এ কৃতিত্ব আমি কাকে দেবো? কি আমার কাজের ছেলেকে, যে ভুল করে গরুর মগজ অপারেশন টেবিলের পাশে রেখে গিয়েছিলো, নাকি সেই জুনিয়র ডাক্তারকে যে আমার অনুপস্থিতে বাকি অপারেশনের কাজটুকু করেছিলো, নাকি আমার গিন্নীকে যার হঠাৎ করে সেদিন গরুর মগজ খাওয়ার শখ হয়েছিলো। দর্শক গ্যালারি থেকে একজন বড় বিরক্ত হয়ে জিগ্গাসা করলেন- সবইতো বুঝলাম স্যার। কিন্তু মুল ঘটনাটাইতো পরিস্কার হলোনা। আপনার সেই বড় এবং গোপন কীর্তিটা আসলে কি? বৃদ্ধ প্রফেসর ডাক্তার বললেন- সেদিনের সেই মগজবিহীন অপারেশানের রোগী গরুর মগজ নিয়ে আজ দেশের একজন পূর্ণ গো মন্ত্রী দুঃখিত সক মন্ত্রী হয়েছেন ।আপনারাই বলুন -এর চেয়ে বড় কৃতিত্ব আর কি হতে পারে?
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment