ছোট্ট পাখি, অতঃপর শূন্য খাঁচা

ব্রেইনের সবচেয়ে বড় প্রবলেম হলো যে জিনিসটা মানুষ ভুলে যেতে চায়, কেন যেন সেটাকে খুব সাজিয়ে-গুছিয়ে যত্ন করে আগলে রাখে। আর ঐসব স্মৃতিগুলো আস্তে-আস্তে জমতে থাকে বুকের মধ্যে সেই শূন্য ঘরটিতে, তাতে করে হয়তো ঘরটা মজবুত হয় কিন্তু চাপা কষ্টের ভারে দম বন্ধ হবার উপক্রম হয়। কোন এক পড়ন্ত বিকেলে যখন আমি জানালার নীলচে গ্লাস সরিয়ে দূরের নীল দিগন্ত দেখতে ব্যস্ত, তখন আগমন ঘটে ছোট্ট পাখিটির, গ্রীলের উপর বসে তার সে কি কিচির-মিচির। পাখিটার কিচির-মিচিরে সময়গুলো ভালোই কাটছিলো, হঠাৎ একদিন পাখিটা বলল, তোমার ছোট্ট খাঁচাটায় আমাকে থাকতে দিবে?? আমি একটু চমকে বললাম, ও পাখি এ খাঁচা শুধু ছোটই না, নিঃস্বও বটে। ধূসর-বিবর্ণ এ খাঁচায় তুমি থাকতে পারবে না। পাখি বলল তাতে কি হয়েছে, ঐ আকাশের রঙধনুকে ডানায় করে তোমার খাঁচায় এনে দিব। সত্যিই পাখিটার ডানার রঙে খাঁচাটা একটু- একটু করে রাঙা হয়ে উঠছিল, কিন্তু রঙিন হয়ার আগেই কেমন যেন পাখিটা ছট-ফট করতে লাগলো। পাখিটার অস্বস্তি দেখে আমিও খাঁচার দরজাটা মেলে দিলাম, খাঁচাটার প্রতি যদি তার সত্যি মায়া থাকে তাহলে একদিন ফিরবে সে আশায়। কিন্তু না, পাখি আর ফিরবে না, বড়-রঙিন খাঁচায় সে বেশ সুখেই আছে। আমি, পড়ন্ত বিকেল, নীলচে গ্লাস, নীল দিগন্ত সব সেই আগের মতোই আছে, নেই কেবল সেই ছোট্ট পাখিটি, তার সেই কিচির-মিচির।ছাড়াতে গিয়ে কখন যে পাখিটার সাথে আষ্টে-পৃষ্টে জড়িয়ে গেছি, বুঝতে পারিনি, যখন পারলাম তখন শুধু খাঁচা না আমার পৃথিবীই শূন্য হয়ে গেছে।সময় হয়তো থেমে থাকে না, কিন্তু আমি কেন যেন থেমে আছি পাখিটার ঐ সময়ে। তবু্ নিজেকে বোঝাই নাকি বোঝাতে বাধ্য হই, “সব পাখিকে রাখার মতো খাঁচা তো আর সবার থাকে না।।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment