ঘড়ির ভবিষ্যৎ নির্ভর নারীদের ওপর

অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বে ঘড়ির চাহিদা কমেছে। তবে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ঘড়ির চাহিদা কম। এ কারণে সুইস ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে যে ঘড়ির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন নারীরা। টিভি খুললেই ওমেগা ব্র্যান্ডের একটি ঘড়ির বিজ্ঞাপন নিশ্চয়ই আপনাদের নজর কাড়ে। হ্যাঁ, বলছি হলিউড অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যানের বিজ্ঞাপনটির কথা। বিলাসবহুল ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওমেগার এই ঘড়িটি যেমন উন্নত প্রযুক্তির, তেমনি এটি অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, কেননা এটি হীরক খচিত। ঘড়িটির নাম লেডিম্যাটিক। নিজের সামাজিক অবস্থান বা পদমর্যাদা বোঝাতে একটা দামি ঘড়ি কিন্তু যথেষ্ট। অন্তত পুরুষরা তাই মনে করেন। আর তাঁদের সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ঘড়ি তৈরি করে সুইস ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে পুরুষদের ঘড়িতে উন্নত প্রযুক্তি, গেজেটের চাহিদা বেশি। আর অর্থনীতির উত্থান পতনের সাথে সাথে তাদের চাহিদাটাও বদলাতে থাকে। চীনে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সুইস ঘড়ির। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সম্প্রতি সেখানে পুরুষদের ঘড়ির চাহিদা কমে গেছে। সুইজারল্যান্ডে ঘড়ির বাজার ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এলভিএমএইচ ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান জ্যঁ-ক্লদ বিভার বলেছেন, ওমেনস ওয়াচ বা নারীদের ঘড়ির উপরই তাদের ব্যবসা নির্ভর করছে। যুগ যুগ ধরে গবেষণায় দেখা গেছে যে, উন্নত প্রযুক্তি, নানা রকম কার্যকারীতা যুক্ত ঘড়ির প্রতি নারীদের আগ্রহ তেমন নেই। যুগের সাথে সাথে ফ্যাশান বদলেছে। এখন ঘড়িকে গহনা বা অলংকারের সমতুল্য হয়। পুরুষদের ঘড়ির মতো নারীদের মধ্যেও বড় ডায়ালের ঘড়ির এখন ব্যাপক চল। চীনসহ এশিয়ার মধ্যবিত্ত নারীরা গয়নার মতো দেখতে, অর্থাৎ নানারকম পাথর সমৃদ্ধ ঘড়ি পছন্দ করছেন। ডিজিটাল লাক্সারি গ্রুপ একটি গবেষণা করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে চীনে ২০১৩ সালে লেডিস ঘড়ির বিক্রি বেড়েছে ৭.৫ ভাগ। একই বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের বিলাসবহুল ঘড়ির চাহিদা ১৯৯৫ সালের চেয়ে ৩৫ ভাগ বেড়েছে। সোয়াচ গ্রুপের ওমেগা ব্র্যান্ডের কর্ণধার স্টেফেন উর্কুহার্ট বলেছেন, ২০১০ সালে বেইজিং-এ প্রথম লেডিম্যাটিক মডেল বাজারে ছাড়া হয় এবং এটার চাহিদাও ব্যাপক। বর্তমানে ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাই উঠে পড়ে লেগেছে কীভাবে নতুন নতুন ডিজাইন দিয়ে নারী ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। তবে হের্মেস অথবা ডিয়র-এর মতো বিখ্যাত ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ডায়ালের ঘড়ি তৈরিতে আগ্রহী নয়। হের্মেস ওয়াচ ইউনিটের প্রধান লাক পেরামন্ড মনে করেন সব ব্র্যান্ড যা করছে তার থেকে ভিন্ন কিছু তাদের করা উচিত। এ কারণে কম্পানিটি ছোট ডায়ালের জুয়েলারি ঘড়ি তৈরি করছে, যেটা অভিজাত নারীদের পছন্দ হবে বলে মনে করে তারা।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment