অনলাইন ডাটা এন্ট্রি থেকে আয়ের নানাকথা

আপনি অনলাইনে আয় করার কথা ভাবছেন সম্ভবত দুটি কারনে, প্রথমত, চাকরীর সুযোগ বা সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয়ত, ব্যবসা বা স্থানীয়ভাবে কাজ করার উপায়ও নেই বিনিয়োগ থেকে নানাবিধ কারনে। ইন্টারনেট থেকে আয় আপনার সমাধান দিতে পারে। যদিও সেখানেও সমস্যা খুব কম নেই। ইন্টারনেটে আয়ের জন্য কাজ জানা প্রয়োজন। প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন এসব কাজ ইন্টারনেটের কাজ হিসেবে বেশি পরিচিত। আরেকটি জনপ্রিয় কাজ হচ্ছে ডাটা এন্ট্রি। একাজ তুলনামুলক সহজ। সাধারনভাবে কম্পিউটার ব্যবহারে কিছুটা দক্ষতা থাকলেই করা যায়। আয় যেহেতু ডলারে সেহেতু সেটাও চলনসই। ডাটা এন্ট্রি কাজের নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। ডাটা এন্ট্রি কাজ আসলে কি ডাটা এন্ট্রি বলতে মুলত টাইপ করা বুঝায়। কাগজে লেখা আছে সেটা দেখে টাইপ করে ডিজিটাল ফাইল তৈরী করবেন। সময়ের সাথে সাথে ডাটা এন্ট্রির ধরনও অনেক পাল্টেছে। একসময় ছাপানো লেখাকে টাইপ করা হত, বর্তমানে স্ক্যান করে ওসিআর ব্যবহার করে তাকে টেক্সট এ পরিনত করা যায় প্রায় নিখুতভাবে। কাজেই সরল ডাটা এন্ট্রির কাজের সুযোগ কমে গেছে। যে কাজগুলি স্ক্যান করে ডিজিটাইজ করা যায় না সেগুলিই এখনো টাইপ করতে হয়। বর্তমানের ডাটা এন্ট্রির কাজের মধ্যে রয়েছে বিশেষ কিছু শর্ত। যেমন লেখাকে ওয়ার্ড ডকুমেন্ট বা এক্সেল ডকুমেন্ট কিংবা ডাটাবেজ ফাইল বানাতে হবে। সাধারনত উতস হিসেবে আপনাকে দেয়া হবে পিডিএফ ফাইল। সেটা টাইপ করা, প্রিন্ট করা ফরম, হাতের লেখা স্ক্যান করা ইত্যাদি যে কোন কিছুই হতে পারে। বর্তমানে ডাটা এন্ট্রি বলতে মুলত পিডিএফ ফাইল দেখে টাইপ করাই বুঝায়। কখনো কখনো এমন কাজ পেতে পারেন যেখানে হয়ত পিডিএফ থেকে অন্য ফরম্যাটে নেয়ার সফটঅয়্যার ব্যবহার করে মুল কাজ করা যায়, তাহলেও আপনাকে টাইপ করতে হবে এটা ধরে নেয়াই ভাল। কি শিখতে হবে ডাটা এন্ট্রি কাজের সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে ওয়ার্ড ডকুমেন্টে পরিনত করা। কাজেই আপনার প্রথমেই মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে দক্ষতা বাড়াতে হবে। সেইসাথে দ্রুত এবং নির্ভুল টাইপ করার দক্ষতা বাড়াতে হবে। যত বেশি কাজ করবেন আয় তত বেশি, আর ভুল কাজের জন্য টাকা পাবেন না। আগে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক সময়ই বলা হবে এক্সেল বা ডাটাবেজ (এক্সেস) ফাইল তৈরী করতে হবে। কাজেই এক্সেল এবং এক্সেস জানাও জরুরী। কি কি থাকতে হবে অনলাইন ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও প্রিন্টার প্রয়োজন হতে পারে। যদি দেখে টাইপ করতে হয় তাহলে ডকুমেন্ট প্রিন্ট করে সেটা দেখে টাইপ করা সুবিধে জনক। টাকা পাওয়ার জন্য ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। কোন প্রতিস্ঠান কিভাবে টাকা দেয় সেটাও আগেই জেনে নিন। বাংলাদেশে যেহেতু পেপল ব্যবহারের অনুমতি নেই সেহেতু অন্য গ্রহনযোগ্য পথ আছে কিনা জেনে নেয়া জরুরী। টাকা পাওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইট সম্পর্কে লেখা রয়েছে বাংলা-টিউটর সাইটে। কাজ কোথায় পাবেন, কিভাবে পাবেন ফ্রিল্যান্সার, ওডেস্ক, স্ক্রিপাটল্যান্স এর মত ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলি কাজ পাওয়ার সবচেয়ে ভাল যায়গা। বিনামুল্যে তাদের সদস্য হয়ে কাজ পাওয়া যায়। যদিও ওডেস্ক এবং ফ্রিল্যান্সারে বিনামুল্যের সদস্যের জন্য কাজের সংখ্যার মাসিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিছু টাকা দিয়ে সদস্য হলে আরো বেশি কাজের জন্য চেষ্টা করতে পারেন। প্রথমে তাদের সাইটে গিয়ে ফরম পুরন করে সদস্য হোন। এরপর কাজের তালিকা দেখে কোন কাজ কত টাকায় করতে চান জানান (বিড করা)। যার কাজ তিনি আপনার দেয়া দামে সন্তুষ্ট হলে আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন। দুজনের মধ্যে সমঝতা হলে আপনাকে কাজ দেয়া হবে। কাজের বর্ননা কিভাবে দেয়া থাকে জানার জন্য এই সাইটের ডানদিকের সাইডবারে ফ্রিল্যান্সার সাইটের উদাহরন দেখুন। কোন কাজ পছন্দ সরাসরি এখানে ক্লিক করে সেই কাজের জন্য বিড করতে পারেন। বিড করার (সাধারন টেন্ডারের সাথে তুলনা করতে পারেন) কাজটি জটিল মনে হতে পারে। যার কাজ তিনি চান কম টাকায় কাজ করাতে, কাজেই সেখানে প্রথমে দেখা হবে আপনি কত কম টাকায় কাজটি করবেন। এরপর যাচাই করা হবে আপনি কাজটি ঠিকভাবে করতে পারবেন কি-না। এই দুই পরীক্ষায় উত্তির্ন হওয়ার জন্য কিছু অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। চেষ্টা করলে সাথেসাথে কাজ পাবেন এটা ধরে না নিয়ে ক্রমাগত চেষ্টা করে যাওয়ার মানষিকতা নিয়ে কাজে হাত দিন। কিভাবে দাম ঠিক করবেন প্রথম অবস্থায় দাম ঠিক করা নিয়ে সমস্যায় পড়েন প্রায় সকলেই। ডাটা এন্ট্রি কাজের দাম হিসেব করা হয় দুভাবে, নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ (ফিক্সড) এবং ঘন্টাপ্রতি অর্থ। শুরুতে ফিক্সড রেটে কাজ করাই ভাল। ঘন্টাপ্রতি কাজের জন্য বেশ কিছু নিয়ম মানতে হয়, আপনি উল্লেখ করা ঘন্টা কাজ করেছেন কিনা যাচাইয়ের জন্য মনিটরিং সফটঅয়্যার ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া আপনার হিসেবেও ভুল হতে পারে। সাধারন টেক্সট টাইপে যে সময় প্রয়োজন হয় অপরিচিত শব্দ, নাম ইত্যাদি টাইপে অনেক বেশি সময় প্রয়োজন হয়। অন্য যারা বিড করেছে তাদের মুল্য দেখে আপনি কত টাকায় করতে চান সেটা ঠিক করতে পারেন। আবারও উল্লেখ করতে হচ্ছে, শুরুতে যতটা সম্ভব কম টাকায় কাজ করুন। অভিজ্ঞতা বাড়লে মজুরী বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। কত আয় করা সম্ভব কাজের যেহেতু নানারকম ধরন আছে সেহেতু ডাটা এন্ট্রি করে কত আয় করা সম্ভব এককথায় বলা কঠিন। সাধারনভাবে ধরা হয় ঘন্টাপ্রতি ২ থেকে ৫ ডলার। যদি ঘন্টাপ্রতি ২ ডলার হিসেবে দৈনিক ৫ ঘন্টা কাজ করেন তাহলে হিসেব দাড়ায় মাসে ৩০০ ডলার। দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথেসাথে এই পরিমান বাড়ার কথা। অনলাইনে কাজ বা ফ্রিল্যান্সিং বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এই কাজের ক্ষেত্র দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। আপনি যত দ্রুত কাজে হাত দেবেন ততটাই এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে লক্ষ করলে দেখা যায় বাংলাদেশীর সংখ্যা একেবারেই সামান্য। অথচ অর্থনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশীর নামই বেশি হতে পারত। যদি অপেক্ষা করে থাকেন রাষ্ট্র আপনার জন্য সুযোগ করে দেবে তাহলে হয়ত সময় নষ্ট করছেন। গত ২০ বছরে কথা বলা ছাড়া বাস্তবে আইটি ক্ষেত্রে সরকার বা নীতিনির্ধারকরা কিছু করেননি। আগামীতেও কথাই বলে যাবেন। আপনার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকেই। অনলাইন ডাটা এন্ট্রি হতে পারে কাজের শুরু।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment