পিটিসি থেকে কত আয় করা যায়

পেইড টু ক্লিক বা পিটিসি হচ্ছে ইন্টারনেটে আয়ের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। কোন সাইটের সদস্য হবেন, তাদের সাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট লিংকে ক্লিক করবেন আর টাকা পাবেন। অন্য সমস্ত কাজ করার পরও দিনে কিছু সময় ব্যয় করে এভাবে আয় করা যায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এভাবে কত আয় করা যায়। এই আয়ের ওপর নির্ভর করে কি চলা যায়, কিংবা একে পেশা বলা যায় কি-না। একথার উত্তর জানার জন্য জানা প্রয়োজন পিটিসি কাজ করে কিভাবে। পিটিসি সাইটগুলি বিজ্ঞাপন প্রচার করে। যারা বিজ্ঞাপন দিতে চান তাদের কাছে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে। বিজ্ঞাপনের টাকার হিসেব করা হয় ক্লিকের সংখ্যা দিয়ে। ধরুন প্রতি হাজার ক্লিকের জন্য ১০ ডলার। এরপর এই এক হাজার ক্লিককে সদস্যদের সামনে দেয়া হয় ক্লিক করার জন্য। সেইসাথে বলে দেয়া হয় যিনি ক্লিক করবেন তিনি প্রতি ক্লিকের জন্য কত করে পাবেন। কাজেই, প্রথমত ক্লিকপ্রতি আয় কমবেশি হয় বিজ্ঞাপন অনুযায়ী। সাধারনত ক্লিকপ্রতি ০.০২ ডলার থেকে ০.০০১ ডলার দেয়া হয়। অনেক সময় প্রচারের জন্য ক্লিকপ্রতি ১ ডলার, এমনকি ৫ ডলারের কথাও বলা হয়। বাস্তবে কোন বিজ্ঞাপনদাতা প্রচারের জন্য এত টাকা ব্যয় করেন না। কাজেই এধরনের কথাকে ভুল প্রচার বলে ধরে নেয়াই ভাল। একজন সদস্য দৈনিক কতগুলি ক্লিক করার সুযোগ পাবেন সেটাও আয়ের হিসেবে একটি বড় বিষয়। পিটিসি সাইট যখন বিজ্ঞাপন পান তখন সেটি ক্লিকের জন্য সকলের সামনে তুলে ধরেন। কাজেই সেই মুহুর্তে কতজন ব্যবহারকারী অনলাইনে আছেন তার ওপর নির্ভর করে ক্লিক করার সুযোগ পাওয়া যায়। ব্যবহারকারী বেশি হলে ক্লিকের সংখ্যা কমে যায়। এরসাথে দিনের সময়ের বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে পারেন। দিনের যে সময়ে বেশি সংখ্যক সদস্য অনলাইনে থাকেন সেই সময়ে ক্লিক করার সুযোগ কম পাওয়া যায়। কাজেই সবকিছু মিলিয়ে পিটিসি থেকে কত পরিমান আয় করা যায় সেটা হিসেব করা খুব জটিল। বরং কিভাবে বেশি আয় করা যায় সেই বিষয়গুলি দেখা যাক। . পিটিসি থেকে আয়ের জন্য একটি-দুটি সাইটের ওপর নির্ভর না করে অনেকগুলি সাইটের সদস্য হোন। সবগুলি মিলিয়ে বেশি ক্লিক করার সুযোগ পাওয়া যাবে। . পিটিসি সাইটগুলির মধ্যে ক্লিকপ্রতি টাকা দেয়ার পরিমানে হেরফের হয়। যারা বেশি টাকা দেয় এমন সাইটের দিকে গুরুত্ব দিন। . দিনের কোন সময় বেশি ক্লিক করার সুযোগ পাওয়া যায় সেটা লক্ষ করুন। . প্রতিটি পিটিসি সাইট রেফারেল ক্লিকের জন্য টাকা দেয়। আপনার মাধ্যমে কেউ সদস্য হলে তার আয়ের একটি অংশ আপনি পাবেন। ব্লগ, ফেসবুক, টুইটার, ইমেইল ইত্যাদির মাধ্যমে অন্যকে সদস্য করার চেষ্টা করুন। আপনার মাধ্যমে ১০০ জন সদস্য হওয়ার অর্থ হচ্ছে তারা গড়ে ১০টি ক্লিক করলে আপনার নামে ১০০০ ক্লিক যোগ হওয়া। আপনি নিজে ক্লিক করে যত আয় করতে পারেন তাথেকে বহুগুন বেশি আয় করতে পারেন রেফারেল ক্লিকের মাধ্যমে। তাদেরকে টাকা দিয়ে সদস্য হলে কয়েক লেভেল পর্যন্ত রেফারেল ক্লিকের টাকা পাওয়া যায়। . ভাল পিটিসি সাইট বেছে নিন। অনেক পিটিসি সাইট সম্পর্কে টাকা না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এই সাইটে ক্লিকসেন্স ( www.clixsense.com) সাইট সম্পর্কে লেখা হয়েছে। এটা নির্ভরযোগ্য প্রতিস্ঠান। এধরনের অন্য সাইট বাছাই করার সময় তাদের সম্পর্কে রিভিউ পড়ে নিন। . পিটিসি-কে অন্য আয়ের সাথে ব্যবহার করাই ভাল। আপনার পুরো আয় এর থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এরসাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যাকিছু করা সম্ভব, যেমন ব্লগ তৈরী করে সেখানে এফিলিয়েশন, ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কিছু কাজ ইত্যাদি বিষয়ের দিকেও দৃষ্টি দিন। আপনি যদি পিটিসি ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ভাল বা মন্দ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে পারেন অন্যদের।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment