অর্থ উপার্জনের জন্য ব্লগিং

ইন্টারনেট নানাভাবে মানুষের উপার্জনের পথ খুলে দিয়েছে। এরমধ্যে ব্লগিং একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। পুরোপুরি পেশাদার ব্লগার কিংবা ফেসবুক-টুইটার ব্যবহারের মত শখের কারনে ব্লগ ব্যবহার যাই হোক না কেন, এথেকে যথেষ্ট পরিমান আয় করা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এভাবে যে পরিমান আয় হয় তা সাধারন চাকরী বা অন্য আয়কে ছাড়িয়ে যায়। কিংবা ভিন্নভাবে বললে, যারা শখ করে ব্লগিং শুরু করেন তারাই একসময় পেশাদার ব্লগারে পরিনত হয়। ব্লগ থেকে কতভাবে আয় করা যায় সেকথা তুলে ধরা হচ্ছে এখানে।
. সবচেয়ে পরিচিত আয়ের পদ্ধতি হচ্ছে বিজ্ঞাপন। অনেকে বলেন আমরা বিজ্ঞাপনের যুগে বাস করি। টিভিষ্টেশন-সংবাদপত্র সবই চলে বিজ্ঞাপনের কারনে। ইন্টারনেট তাদের থেকেও এগিয়ে।
শুরুতে ব্লগারের লক্ষ থাকে গুগল এডসেন্স এর মত বিজ্ঞাপনের দিকে। এরসাথে চিতিকা, ই-মিনিমল, এডব্রাইট, এডজেনা ইত্যাদি বহুকিছু যোগ হতে পারে।
. এফিলিয়েট প্রোগ্রাম ব্লগ থেকে আয়ের অত্যন্ত পরিচিত একটি পদ্ধতি। তাদের সদস্য হোন এবং তাদের লিংক, ব্যানার, পন্যের তালিকা ইত্যাদি ব্লগে যোগ করুন। ধরন অনুযায়ী প্রতি ক্লিক থেকে আয় হতে পারে এবং তাদের সদস্য হওয়া, ডাউনলোড করা, কিছু কেনা, যাই হোক না কেন, তাদের আয়ের একটি অংশ পাবেন। আমাজন, ই-বে যে কারো এফিলিয়েশন নিয়ে তাদের পন্য বিক্রি করা যায় নিজের ব্লগ থেকে।
. ব্লগের মাধ্যমে নিজের বা অন্যের ই-বুক বিক্রি করে আয় করতে পারেন। একইভাবে ডাউনলোড করা যায় এমন যেকোন কিছুই বিক্রি করতে পারেন খুব সহজে। সরাসরি অনলাইনে বেচাকেনার সাইটও হতে পারে।
. কোন কোম্পানীর স্পন্সরশীপ থেকে আয় আসতে পারে। কোন কোম্পানী যদি মনে করে ব্লগ তাদের উপকারে আসতে পারে তারা তাদের প্রচারের জন্য চুক্তিভিত্তিক টাকা দিতে পারে।
. যারা ব্লগ পরিচালনা করেন তাদের অনেকেই সমস্ত আর্টিকেল নিজে লেখেন না। তাদের ব্লগ আর্টিকেল লিখে আয় করতে পারেন। একইসাথে ব্লগিং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) কাজে অর্থ উপার্জণ করতে পারেন।
. ব্লগ যোগাযোগ বৃদ্ধির অন্যতম পন্থা। ব্লগ থেকে আপনার যোগাযোগ হতে পারে আরো দক্ষ ব্লগারের যাদের সামান্য পরামর্শ আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে। ব্লগার হিসেবে সবসময় চোখ রাখুন অভিজ্ঞ ব্লগারের কাজের দিকে। সরাসরি আয় বৃদ্ধি থেকে শুরু করে নতুন আয়ের পথনির্দেশ সবই পেতে পারেন তাদের কাছে।
এগুলি ব্লগিং থেকে আয়ের সামান্য কয়েকটি উদাহরন। ব্লগিং এমন একটি কাজ যেখানে বহু সময় নিয়ে অভ্যস্থ হতে হয়। আজ শুরু করলে সত্যিকারের সাফল্য হয়ত পাবেন ১ বা ২ বছর পর। এই সময় জুড়ে ব্লগারের দায়িত্ব ক্রমাগত শেখা এবং তাকে কাজে লাগিয়ে ব্লগের উন্নতি করে যাওয়া।
যদি কাজে হাত দেয়ার সাথেসাথে আয় আশা করেন তাহলে ব্লগিং হয়ত উপযোগি না।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment