ক্লিক করে আয় : কেন করবেন, কেন করবেন না

ক্লিক করে আয় কিংবা পিটিসি একদিকে যেমন বহু মানুষের প্রিয় অন্যদিকে অনেকে এর কঠোর সমালোচক। দুই বিপরীতমুখি বক্তব্য কখনো সত্য হতে পারে না। বরং এপক্ষে কিছু সত্য, ওপক্ষে কিছু সত্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এধরনের বক্তব্যের ফল হিসেবে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। যারা ব্যবহার করা উচিত না তিনি ব্যবহার করেন, যার ব্যবহার করা যুক্তিসংগত তিনি ব্যবহার করেন না। পিটিসি কার জন্য কার্যকর, কতটা আয় করা সম্ভব, এজন্য কি কি বিষয় লক্ষ করতে হয় সেগুলি আরেকবার তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। প্রথমেই বলে নেয়া ভাল, সব পিটিসি সাইটকে (বা সহজে আয়ের অন্য সাইটগুলিকে) বিশ্বাস করবেন না। এদের অনেকেই কাজ করার পর টাকা দেয় না। যদি কাজ করতে চান আপনার প্রথম দায়িত্ব বিশ্বাসযোগ্য সাইট খোজ করা। পিটিসি কার জন্য উপযোগি সেটা দেখা যাক। .আপনার একটি কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ আছে। দিনে অন্তত ঘন্টাখানেক সময় ব্যয় করতে পারেন এবং এই সময়কে কাজে লাগিয়ে কিছু আয় করতে চান। .ইন্টারনেটে আয়ের জন্য কোন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন (ডাটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন বা অন্যকিছু) কিন্তু সেজন্য এখনো যথেস্ট দক্ষ হননি। আপাতত অন্তত ইন্টারনেটের খরচ বা এধরনের আয় এখানে থেকেই পেতে আগ্রহি। .অন্য কাজ নিয়ে মাথা ঘামানোর মত সময় নেই। এমন কিছু করতে চান যেখানে আদৌ মাথা ঘামাতে হয় না। তাহলে আপনার জন্য পিটিসি। তাদের সদস্য হবেন এবং তাদের লিংকে ক্লিক করবেন। পিটিসির সবই ভাল একথা ধরে নেয়ারও কারন নেই। ক্ষতিকর দিকগুলি হতে পারে; .আপনি হয়ত ভুয়া কোম্পানীর (স্ক্যাম) সদস্য হয়েছেন। আপনার নামে টাকা জমা হলেও সেই টাকা পাবেন না। .এভাবে আয়ের পরিমান অত্যন্ত কম (বিশেষভাবে দক্ষ না হলে)। একে পুরোপুরি আয়ের পথ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না। হয়থ লক্ষ করেছেন এদেরকে সবসময়ই এক্সট্রা আয় বলে উল্লেখ করা হয়। .মানষিকভাবে অনেকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এভাবে সহজে টাকা আয় হতে দেখে এবং নানারকম লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে মনে হতে পারে এভাবে বহু টাকা আয় করা যাবে। তখন অন্যকিছু শেখার ইচ্ছে কাজ করে না। একটা বিষয় নিশ্চিত, দুমাস টাইপিং প্রাকটিস করে ডাটা এন্ট্রি করে সহজে মাসে হাজার ডলার আয় করতে পারেন। পিটিসি থেকে এই পরিমান আয়ের জন্য পরিশ্রম করতে হবে তারথেকেও বেশি। পিটিসি কখন সবচেয়ে লাভজনক আপনি যদি পিটিসি সাইটের সদস্য হয়ে নিজে ক্লিক করে আয় করতে চান তাহয়ে আয়ের পরিমান একেবারেই হতাসা জনক। সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লিকসেন্স এর কথা ধরা যাক। বিনামুল্যে সদস্য হলে আপনি দিনে গড়ে ২০টি ক্লিক করার সুযোগ পাবেন। এর একটি বা দুটির জন্য পাবেন ১ সেন্ট করে, বাকিগুলির জন্য .১ সেন্ট। অর্থাদ দিনে আপনি ৩ সেন্ট আয় করতে পারেন। একে নিশ্চয়ই আয় বলে না। যদি টাকা দিয়ে সদস্য হন তাহলে এর দ্বিগুন অর্থ পাবেন। তারপরও সেই আয়ের পরিমান সামান্য। যদি আপনার ব্লগ থাকে, অথবা ফেসবুক, ইমেইল ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের লিংক প্রচার করে সেখান থেকে অন্যদের সদস্য বানাতে পারেন তাহলে এই চিত্র পাল্টে যায়। আপনার মাধ্যমে যদি ১০০ জন সদস্য হয়, তারা প্রত্যেকে যদি গড়ে ১০টি ক্লিক করে তাহলে ১ হাজার ক্লিক। এই ক্লিকগুলির আয়ের ভাগ আপনি পাবেন। এভাবে পাওয়া আয় (রেফারেল) আপনার নিজের ক্লিক করে আয়ের পরিমানের চেয়ে বহুগুন বেশি হতে পারে। অন্যকথা আপনি যখন ব্লগার তখন আপনার সাইটে তাদের লিংক রেখে দিন, অন্যকিছু করার প্রয়োজন নেই। আয় আসতে থাকবে। উদাহরন এই সাইট। সেইসাথে যদি নিজে ক্লিক করে আরো কিছু আয় করতে চান সেটাও করতে পারেন। ক্লিকসেন্সে টাস্ক নামের কিছু সহজ কাজ রয়েছে যেখানে দেয়া টাকার পরিমান বেশি, এছাড়া তাদের সাইটে গেম খেলেও আয় করা যায়, ক্লিক্স-গ্রিড নামের একটি পদ্ধতিতে ৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ আছে। একই কথা মাই-ব্রাউজার-ক্যাশ এর ক্ষেত্রেও। তাদের ক্লিকপ্রতি আয় বেশি, নানাধরনের অফার থেকে আরো বেশি আয় করা যায়। এর ব্যবহারও ভিন্ন ধরনের। তাদের একটি সফটঅয়্যার ইনষ্টল করতে হয়। এরপর স্বাভাবিকবাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে থাকলে টাস্কবারে বিজ্ঞাপন দেখা যাবে। ইচ্ছে করলে ক্লিক করে আয় করতে পারেন, অথবা তাকে উপেক্ষা করে নিজের কাজ করে যেতে পারে। এখানেও রেফারেল আয় একটি বড় সস্ভাবনা। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। ক্লিকসেন্স সবচেয়ে জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি কারনে। এখানে রেফারেল আয়ের ক্ষেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা নেই, যত বেশি সদস্য তত বেশি আয়। টাকা দিয়ে সদস্য হলে ৮ লেভেল পর্যন্ত। টাকার পরিমানও কম, বছরে ১৭ ডলার। অন্যদিকে মাইব্রাউজারক্যাশ থেকে আয়ের পরিমান বেশি সেইসাথে সদস্য হওয়ার ফি বেশি। বিনামুল্যের সদস্য হিসেবে ৪০ জনের রেফারেল আয় পাবেন, সিলভার সদস্য হলে ৪০০ জনের। তুলনার কারনে উল্লেখ করা হচ্ছে, নিওবাক্স, পিটিসি-বক্স এগুলিও শীর্ষস্থানীয় পিটিসি সাইট। কিন্তু তাদের কাছে সত্যিকারের আয়ের জন্য টাকা দিয়ে সদস্য হতে হয়। বিনামুল্যের সদস্য হিসেবে খুববেশি আয়ের সুযোগ নেই। পিটিসি কখন ব্যবহার করবেন না ওপরের বক্তব্য থেকে অনেকেই মনে করতে পারেন পিটিসি খুব ভাল কাজ, এটাই করা উচিত। এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আসলেই পিটিসি ব্যবহার করবেন কি-না। .আপনার পক্ষে যদি অন্য কাজ করা সম্ভব হয় তাহলে তাকে গুরুত্ব দিন। অন্য কাজ কঠিন মনে হলে অন্তত ডাটা এন্ট্রি কাজের প্রস্তুতি হিসেবে এমএস-ওয়ার্ড শিখুন এবং দ্রুতগতির-নির্ভুল টাইপ করা প্রাকটিস করুন। অল্পদিনেই ডাটা এন্ট্রি কাজের দক্ষতা লাভ করবেন। .যদি ব্লগ ব্যবহারে আগ্রহ না থাকে তাহলে পিটিসি থেকে আয়ের পরিমান একেবারে সামান্য। বসে থেকে হাজার ডলারের কথা বিশ্বাস করবেন না। .সাইট সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে পিটিসি সাইটের সদস্য হবে না। .নিজের টাকায় সদস্য হবেন না। বিনামুল্যের সদস্য হয়ে আয় করুন, সেই টাকায় সদস্য ফি দিন। ভাল পিটিসি সাইটের বিষয় নিজের এফিলিয়েশন লিংক সহ অন্যকে জানান, তারা সদস্য হলে তাদের লাভ আপনারও লাভ। কোন সাইট সম্পর্কে খারাপ রিপোর্ট পেলে সেটাও অন্যদের জানান। অনেকে সমালোচনা করতে গিয়ে সরাসরি পিটিসি ব্যবস্থাকেই অবৈধ বলে বসেন। পিটিসি বৈধ বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা। দ্রুত এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে, অনেকেই নতুন নতুন বিষয় যোগ করছে। আগামীতে পিটিসি আরো শক্তিশালী কাজের ক্ষেত্র হয়ে দাড়াবে এটা নিশ্চিত। ক্লিক করে আয়ের অনেক সমালোচনাই গ্রহনযোগ্য, কিন্তু কোন দেশে যখন বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ নেই, তাদের কাছে ১০ ডলারও অনেক টাকা। সেটা করতে সমস্যা কোথায়।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment