ফ্রিল্যান্সারের প্রধান ৫ সমস্যা এবং সমাধান

ফ্রিল্যান্সারদের সম্পর্কে অনেকেরই ধারনা তারা ফাকিবাজি কাজ করেন। নিজের বাড়িতে থাকেন, ইচ্ছেমত কাজ করেন। অনেকেই মনে করেন কম্পিউটার আর ইন্টারনেট থাকলে কপিরাইটার, গ্রাফিক ডিজাইনার কিংবা এসইও এক্সপার্ট হয়ে বেশ আয় করা যায়। এই ধারনায় দোষের কিছু নেই যদি কাজের জন্য সেই পরিমান মনোনিবেশ করা হয়, দক্ষতার সাথে কাজ করা হয়। অনেকেই সেটা বুঝতে ভুল করেন, ফল হিসেবে বেশকিছু সমস্যা তৈরী হয়। ফ্রিল্যান্সারের নিজের, অন্য ফ্রিল্যান্সারের এবং ক্লায়েন্টের। সৌখিন ফ্রিল্যান্সার যে সমস্যাগুলি তৈরী করেন এধরনের ৫টি প্রধান সমস্যা এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে। . মনমত কাজ করা ফ্রিল্যান্সার অনেকসময়ই ধরে নেন যখন ভাল লাগবে তখন কাজ শেষ করবেন। তার হাতে কাজ জমা থাকে। একদিকে সময় গড়াতে থাকে, ক্লায়েন্ট বিরক্ত হয়, শেষে তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করায় কাজের মানের ওপর প্রভাব পড়ে। যদি সত্যিকারের অর্থেই ভাল করতে চান তাহলে ফ্রিল্যান্সিংকে অফিসে চাকরী করার মত একই দৃষ্টিতে দেখুন। সময়ের কাজ সময়ে শেষ করুন। যদি বোধ করেন ফ্রিল্যান্সিং আপনার সাথে মানানসই হচ্ছে না সাথেসাথে ছেড়ে দিন। ভাললাগা ছাড়া চাকরী করা সম্ভব, ফ্রিল্যান্সিং সম্ভব না। . অতিরিক্ত কাজ হাতে নেয়া আপনি কি এত পরিমান কাজ হাতে নিয়েছে যেখানে এক কাজ করার সময় আরেক কাজের কথা ভাবতে হচ্ছে ? বেশি উপার্জনের জন্য অনেকেই সেটা করেন। এর খারাপ দিক হচ্ছে তাড়াহুড়ার ছাপ পড়বে আপনার প্রতিটি কাজের ওপর, প্রত্যেক ক্লায়েন্ট সেটা জানবেন এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরবর্তী কাজে সমস্যা তৈরী হবে। আপনার পক্ষে কতটা সময় ব্যয় করা সম্ভব সেটা হিসেব করে নিন, সেই সময়ে যতটা কাজ করা সম্ভব ততটা কাজই নিন। এক কাজের মধ্যে আরেক কাজে হাত দেবেন না। . গাইডলাইন না মানা ফ্রিল্যান্সার নিজস্ব কিছু নিয়ম মেনে চলেন। একসময় সেটা এতটাই নিয়মে দাড়িয়ে যায় যে ক্লায়েন্টর বক্তব্য ভালভাবে দেখাও প্রয়োজন বোধ করেন না। এরফলে এমন কিছু নির্দেশ এরিয়ে যেতে পারে যেখানে ক্লায়েন্ট ধারনা করবেন ফ্রিল্যান্সার দায়িত্বহীন। সমাধান খুব সহজ। ক্লায়েন্ট যে নির্দেশ দিয়েছেন তার প্রতিটি শব্দ একাধিকবার পড়ুন। সেখান থেকে পয়েন্টগুলি পৃথক করুন এবং সেগুলি মেনে কাজ করুন। . নমুনা এবং কাজের পার্থক্য কাজ পাওয়ার জন্য আপনি সবচেয়ে ভাল নমুনা দেখাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কাজ হাতে পাওয়ার পর আপনি হয়ত তারসাথে মানানসই কাজ করলেন না। ক্লায়েন্ট নমুনা দেখে ফ্রিল্যান্সার সম্পর্কে যে আশা করেছিলেন সেটা যদি কাজে না পান তাহলে তিনি হতাস হবেন। এর সমাধান হিসেবে কাজ চুড়ান্ত করার আগেই যতটা সম্ভব কাজটি দেখাতে চেষ্টা করুন, ক্লায়েন্টের বক্তব্য শুনুন। যদি ক্লায়েন্ট এমনকিছু চান যেখানে অন্যের সাহায্য প্রয়োজন হবে, সেটা আগে নিশ্চিত হয়ে নিন। অবশ্যই এমন ক্লায়েন্ট রয়েছে যারা যত বেশি দেবেন তারথেকেও কিছু বেশি আশা করে। এধরনের ক্লায়েন্ট থেকে দুরে থাকুন। . যোগাযোগে দেরী করা ক্লায়েন্ট হয়ত আপনাকে মেইল করেছেন কিংবা অন্যভাবে যোগাযোগ করেছেন, কোনভাবে সেটা আপনার দৃষ্টি এড়িয়ে গেল। সময়মত যোগাযোগ করলেন না। এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। তার কোন বক্তব্য থাকতে পারে যা সাথেসাথে শোনা প্রয়োজন। সমস্যা এড়াতে মুলত ইমেইল যোগাযোগ ব্যবহার করুন। আপনি যদি ওডেস্ক কিংবা ইল্যান্স এর মত সাইট ব্যবহার করেন, নিজের মুল ইমেইল ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত (দিনে কয়েকবার) দেখে নিন নতুন মেইল আছে কিনা। সাথেসাথে উত্তর দিন।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment