ফ্রিল্যান্সার হতে চান ? নিজেকে প্রশ্ন করুন

আমি ফ্রিল্যান্সার এই পরিচয় দেয়ার জন্য বহু সময় অপেক্ষা করতে হয়। কয়েক মাস কিংবা বছর চেষ্টার পর আপনি সত্যিকারের ফ্রিল্যান্সার হতে পারেন। এই সময় কাটানোর পর কি আপনার মনে এমন প্রশ্ন আসেতে পারে, ফ্রিল্যান্সিং আমার জন্য ঠিক কি-না। আপনি অর্ধেক পথ যাওয়ার পর ঠিকপথে চলছেন নাকি ভুলপথে চলছেন এপ্রশ্ন কোন উপকার বয়ে আনে না। যদি সম্ভাবনা থেকেই থাকে, আগে পথটি সম্পর্কে জেনে নিন। ফ্রিল্যান্সার হওয়ার আগে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করে আপনি যাচাই করে নিতে পারেন একাজ আপনার জন্য মানানসই কিনা। . আপনি কি একা কাজ করতে পছন্দ করেন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনাকে পুরোপুরি একা কাজ করতে হতে পারে। বিষয়টি কারো পছন্দ, কারো অপছন্দ। কেউ কাজের সময় কাছাকাছি অন্যের উপস্থিতিতে বিরক্ত হন, কেউ অন্যের উপস্থিতি পছন্দ করেন। কেউ কাজের মধ্যে অন্যের পরামর্শ-মন্তব্য পছন্দ করেন না কেউ সেটাই আশা করেন। ফ্রিল্যান্সারের জন্য অন্যের উপস্থিতি ছাড়াই কাজ করার মানষিকতা থাক জরুরী। এমন না যে অন্য কেউ থাকবে না, কিন্তু না থাকলেও আপনাকে কাজ শেষ করতে হবে। . আপনি কি নিজে থেকেই কাজে আগ্রহি নাকি অন্যের দেয়া উতসাহে সাড়া দেন অন্যের উতসাহ-প্রশংসা ইত্যাদি যদি আপনার কাজকে প্রভাবিত করে তাহলে সেটা ফ্রিল্যান্সিং কাজে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে। ফ্রিল্যান্সারদের সম্পর্কে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তারা সময়মত কাজ শেষ করেন না, আর এর পেছনের বিষয় হচ্ছে কাজ সম্পর্কে উতসাহ না থাকা। অনেকের কাছে উতসাহ বিষয়টি স্বভাবগত। যাকিছু কাজ আছে হিসেব মিলিয়ে শেষ করেন, এমনকি হাতে কাজ না থাকলে ভবিষ্যতের কাজ এগিয়ে রাখেন। . কতটা উপার্জন প্রয়োজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরুর আগে একটা হিসেব করে নিন, আপনার খরচ কত। বাড়িভাড়া, যাতায়াত-খাবার এবং অন্যান্য খরচ সব মিলিয়ে আপনাকে কমপক্ষে কত আয় করতে হবে, আপনি কতঘন্টা কাজ করে সেটা আয় করতে পারেন। খরচের বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে আপনি কতটা আয় করতে চান। একে তুলনা করুন চাকরী করলে যা আয় করা সম্ভব তার সাথে। অবশ্য চাকরী পাওয়া যেখানে অনিশ্চিত সেখানে এই হিসেব ভিন্ন হতেই পারে। . আপনার দক্ষতা কিসে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি কোন কাজ করতে চান। সেই বিষয়ে আপনার দক্ষতা কতটুকু। এই মুহুর্তে কতটুকু, আগামীতে সেটা কতটা বাড়ানো সম্ভব। আপনি কাজটি কতটা পছন্দ করেন। ফ্রিল্যান্সিং কাজে দক্ষতা এবং কাজ করে আনন্দ পাওয়া দুটিই প্রয়োজন। . কাজ পাওয়ার জন্য আপনার কি ব্যবস্থা আছে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনাকেই ক্লায়েন্ট খুজে বের করতে হবে। আপনি সেটা কিভাবে করবেন স্পষ্ট ধারনা নিন। স্থানীয় ভাবে ক্লায়েন্ট খোজ করবেন নাকি ইন্টারনেটের মাধ্যমে আউটসোর্সিং কাজ খোজ করবেন। স্থানীয়ভাবে কাজ খোজার জন্য আপনার ব্যক্তি পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়াতে হবে, ইন্টারনেটে কাজ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সাইট নিয়মিত দেখা, নিজেস্ব ওয়েবসাইট-ব্লগ ইত্যাদি প্রয়োজন হবে। আপনি ফ্রিল্যান্সার হবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত আপনার। ১০ বছর সময় কাটানোর পর যদি ভাবেন ফ্রিল্যান্সার হয়ে ভুল করেছি, অথবা আক্ষেপ করেন ১০ বছর আগে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে এতদিনে ভাল করতাম এমন অবস্থার দিকে যেন না যেতে হয়। আপনার সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে সাফল্য অথবা ব্যর্থতা।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment