এডবি ইলাষ্ট্রেটর তুলনামুলক পেশাদার কাজের সফটঅয়্যার। শখ করে কদিন শেখার উপযোগি সফটঅয়্যার না। যদিও শখের কারনে অনেকে অনেক কঠিন কাজ করেন, তাদের কথা বলছি না। একথার অর্থ হচ্ছে আপনাকে শিখতে হবে যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে, বেশ সময় ব্যয় করতে হবে। ফল হিসেবে যে যোগ্যতা লাভ করবেন তাতে অনায়াসে পেশাদার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। প্রথম টিউটোরিয়াল হিসেবে এখানে ইলাষ্ট্রেটর পরিচিতি, কাজের নিয়ম এবং বেসিক সেপ ব্যবহার দেখানো হচ্ছে।
ওয়েলকাম স্ক্রিন
এডবির অন্যান্য সফটঅয়্যারের মত ইলাষ্ট্রেটর চালু করলে একটি ওয়েলকাম স্ক্রিন পাওয়া যাবে। এখান থেকে আপনি কোন নতুন ডকুমেন্ট তৈরী করবেন সেটা সিলেক্ট করতে পারেন, অথবা আগের করা ডকুমেন্ট ওপেন করতে পারেন।
যদি ওয়েলকাম স্ক্রিন স্ক্রীন ব্যবহার না করতে চান তাহলে এর নিচের অংশেDo not showলেখা অংশে টিক চিহ্ন দিন।
পুনরায় একে পেতে পারেনHelp – Welcome Screenকমান্ড ব্যবহার করে।
ইলাষ্ট্রেটর চালু করলে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মত নিজে থেকে নতুন ডকুমেন্ট তৈরী হবে না। আপনি ইলাষ্ট্রেটর শুরু করে নতুন একটি ডকুমেন্ট তৈরী করবেন। কাজটি কি সেটা আগে ঠিক করুন। হয়ত ফটোশপে একটি বিজনেস কার্ড ডিজাইন করেছেন সেটার জন্য টেক্সট লিখবেন, কিংবা খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন তৈরী করবেন, অথবা ওয়েব পেজে ব্যবহারের জন্য হেডার তৈরী করবেন। আপনি শুরুতেই ঠিক করে নেবেন কাজটি কোথায় ব্যবহার করে, তার মাপ কত।
. ইলাষ্ট্রেটর শুরু করে মেনু থেকেFile - Newকমান্ড দিন (কিবোর্ডেCtrl-N।
নতুন ডকুমেন্টের ডায়ালগ বক্স পাবেন
. New document profileথেকে ডকুমেন্টের ধরন সিলেক্ট করুন।
কাজ অনুযায়ী আপনার পছন্দ হতে পারেWeb, Print, Mobile Device, Video and Film, Basic CMYK, Basic RGB, Catalystইত্যাদি। ওয়েব, ভিডিও, ক্যাটালিষ্ট ইত্যাদির জন্য নিজে থেকেRGBকালার মোড ব্যবহৃত হবে, এর জন্য ব্যবহৃত হবেCMYK
. নির্দিষ্ট ভাবে ডকুমেন্টের মাপ ঠিক করে নিতে পারেনWidth-Heightপরিবর্তন করে।
. Advanceক্লিক করে প্রয়োজনে আরো নির্দিষ্ট পরিবর্তন করে নিতে পারেন।
. OKবাটনে ক্লিক করলে বৈশিষ্ট অনুযায়ী ফাকা ডকুমেন্ট পাওয়া যাবে।
ইলাষ্ট্রেটর ইন্টারফেস
আপনি যদি ফটোশপে কাজ করে থাকেন তাহলে তারসাথে ইলাষ্ট্রেটরের ইন্টারফেসের মিল পাবেন। ফটোশপের মতই বামদিকে টুলবক্স, ডানদিকে বিভিন্ন ধরনের প্যানেল রয়েছে ইলাষ্ট্রেটরে। কাজের ধরন অনুযায়ী আপনি বিভিন্নভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন স্ক্রীনকে। একে বলা হয় ওয়ার্কস্পেস। নিজে থেকে সেখানেEssentialsনামের ওয়ার্কস্পেস পাবেন। এছাড়া ফটোশপের মত, ইনডিজাইনের মত ইত্যাদি ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করা যাবে। যদি এই দুটি সফটঅয়্যারের কোনটি বেশি ব্যবহার করেন তাহলে সেটা বেছে নিতে পারেন।
এর বাইরে কাজ অনুযায়ীPainting, Printing and Proofing, Typegraphy, Webইত্যাদিও আপনার পছন্দ হতে পারে। কিংবা একেবারে নিজের পছন্দমত স্ত্রীন সাজিয়ে তাকে নিজস্ব ওয়ার্কস্পেস হিসেবে সেভ করে নিতে পারেন।
টিউটোরিয়ালের সুবিধার জন্য এখানে ডিফল্ট ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করা হচ্ছে।
ডকুমেন্ট এবং আর্টবোর্ড
সাধারনভাবে আপনি যখন ইলাষ্ট্রেটর ডকুমেন্ট তৈরী করবেন তাকে একপৃষ্ঠার ডকুমেন্ট হিসেবে কল্পনা করতে পারেন। ইলাষ্ট্রেটরে একাধিক পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট ব্যবহার করা যায় না। তকে একটি পৃষ্ঠাকে আর্টবোর্ড ধরে নিয়ে একাধিক আর্টবোড ব্যবহার করতে পারেন।
নতুন আর্টবোর্ড তৈরীর জন্য আর্টবোর্ড প্যানেলেNew Artboardক্লিক করুন।
ইলাষ্ট্রেটরে মাপ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। কাজেই মাপের বিষয় দিয়ে শুরু করা যাক।
গ্রিড, গাইড, রুলার ইত্যাদি
ভেক্টর ড্রইংর এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট নিখুত মাপ। আপনি নির্দিষ্ট মাপে কিছু আকতে পারেন, একটি অবজেক্টের সাথে আরেকটিকে নির্দিস্ট মাপে সংযুক্ত করতে পারেন। এজন্য বেশকিছু ব্যবস্থা রয়েছে ইলাষ্ট্রেটরে।
রুলার: ড্রইং বোর্ডের ওপরের দিকে এবং বামদিকে এটা দেখা যায়। মেনু থেকেView – Rulers – Show Rulersকমান্ড ব্যবহার করে অথবা কিবোর্ডেCtrl + Rশর্টকাট কি ব্যবহার করে একে অন-অফ করা যাবে।
রুলারের একক ইঞ্চি, সেন্টিমিটার, পাইকা, পিক্সেল ইত্যাদি হতে পারে। আপনি যে মাপে কাজ করছেন তারসাথে মিল রেখে এটা ঠিক করে নেবেন। ইউনিট পরিবর্তনের জন্য রুলারের ওপর রাইট-ক্ণিক করুন এবং পছন্দমত ইউনিট সিলেক্ট করুন।
আপনার ডকুমেন্টে কোন ড্রইং থাকলে এর ওপরের বামদিকের কোনে রুলারের ০,০ পয়েন্ট (অরিজিন) পাবেন। আগের ভার্শনের ইলাষ্ট্রেটর ব্যবহার করলে বিষয়টি লক্ষ্য করুন, ভার্শন সিএস-৫ এর আগের ভার্শনে ০,০ শুরু হত বামদিকের নিচের অংশ থেকে।
একাধিক আর্টবোর্ড থাকলে প্রতিটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন রুলার সেটিং কাজ করবে।
গাইড: গাইড ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন অবজেক্টকে তারসাথে মানানসই করে সহজে আর্টবোর্ডে রাখার জন্য। রুলারের ওপর ক্লিক করে মাউস ড্রাগ করে আর্টবোর্ডের ওপর আনুন। নতুন একটি রেখা তৈরী হবে। অবজেক্টগুলিকে সহজে তারসাথে মিল করে সাজানো যাবে।
গ্রীড: গ্রীডকে গ্রাফপেপারের সাথে তুলনা করতে পারেন। গ্রীড ভিউতে পুরো ডকুমেন্টে ওপর ছককাটা দাগ দেখা যাবে। এরসাথে মিল করে সহজে অবজেক্টকে সাজানো যাবে।
গ্রীড দেখার জন্য মেনু থেকেView – Show Gridকমান্ড দিন।
স্মার্ট গাইড : ইলাষ্ট্রেটর সিএস-৫ ভার্শনে স্মার্ট গাইড নামে একটি বিশেষ ফিচার যোগ করা হয়েছে। মাউস পয়েন্টারকে কোন অবজেক্টের ওপর আনলে অন্যান্য অবজেক্টের সাথে তুলনামুলক গাইড দেখা যায়। ফলে একটি অবজেক্ট আরেকটি অবজেক্টের সাথে মিল আছে কিনা, কোথায় মিল আছে জানা যায়।
পারস্পেকটিভ গাইড : কোন বস্তু কাছে থাকলে বড় দেখায়, দুরে থাকলে ছোট দেখায়। এধরনের থ্রিডি ড্রইং তৈরীর জন্য পারস্পেকিটিভ গাইড বলে একটি বিষয় রয়েছে। এই ব্যবস্থায় কাছের অবজেক্টকে দুরে সরালে সেটা নিজেই ছোট হয়। পারস্পেকটিভ গাইড এবং ড্রইং একটি টিউটোরিয়ালে উল্লেখ করা হবে।
বেসিক সেপ ব্যবহার
ইলাষ্ট্রেটর এর ইন্টারফেস সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা পাওয়া গেল। এবার কিছু কাজ করে দেখা যাক।
ইলাষ্ট্রেটরের মুলকাজ ড্রইং। আপনি ড্রইং এরজন্য সরলরেখা, বেজিয়ে কার্ভ, ফ্রিহ্যান্ড ড্রইং, ব্রাস ইত্যাদি বিভিন্ন টুল ব্যবহার করবেন। সেইসাথে আয়তক্ষেত্র (রেকট্যাংগল), বৃত্ত (সার্কল) সহ নানাধরনের সেপ ব্যবহারে করেও ড্রইং করবেন। সরল সেপ দিয়ে শুরু করা যাক।
ওপেন এবং ক্লোজ লাইন
লাইন ব্যবহার করে আকার সময় সেপ দুধরনের হতে পারে। একটি সরলরেখা এবং একটি বৃত্তকে কল্পনা করুন। বৃত্তের জন্য একটি যায়গা রয়েছে যাকে ঘিরে রয়েছে বাকানো একটি রেখা। অন্যদিকে সরলরেখার কোন যায়গা নেই। প্রথমটির মাঝখানে কোন রং ব্যবহার করতে পারেন, সরলরেখায় শুধুমাত্র রেখার ওপর রং ব্যবহার করতে পারেন, কোন যায়গা নির্দেশ করে না বলে রং ব্যবহার করতে পারেন না। আপনার ড্রইং অবজেক্ট এর দুটি বৈশিষ্ট, একটি লাইন, অপরটি ফিল। দুটি ভিন্ন ভিন্ন রঙের হতে পারে।
কাজেই সাধারন নিয়ম, রং (ফিল) ব্যবহারের জন্য ক্লোজ লাইন প্রয়োজন (ব্যতিক্রম আছে)।
আয়তক্ষেত্র তৈরী
. টুলবক্স থেকেRectangleটুল সিলেক্ট করুন।
. আর্টবোর্ডে ড্রাগ করে একটি আয়তক্ষেত্র আকুন।
আপনি যেখান থেকে শুরু করবেন এবং যে পর্যন্ত ড্রাগ করবেন সেই মাপের আয়তক্ষেত্র পাবেন। আকার সময় স্পেসবার চেপে ড্রইংকে ইচ্ছেমত সরানো যাবে।
. ড্রইং মোড থেকে বাইরে যাবার জন্য সিলেকশন টুলে ক্লিক করুন।
আপনার আকা আয়তক্ষেত্রে লাইনের বৈশিষ্ট কি হবে, অর্থাত লাইনের পুরুত্ব, রং ইত্যাদি নির্ভর করবে আপনি লাইন এবং ফিলের জন্য কি সিলেক্ট করেছেন তার ওপর। ড্রইং করার আগেই এগুলি ঠিক করে নিতে পারেন অথবা ড্রইং করার পর সেটা সিলেক্ট করে পরিবর্তন করতে পারেন।
ড্রইং করা আয়তক্ষেত্রের পরিবর্তন করে দেখা যাক।
. সিলেকশন টুল সিলেক্ট করুন।
. আয়তক্ষেত্রটি ক্লিক করে সিলেক্ট করুন।
. প্রোপার্টি বারে (মেনুবারের নিচে) ফিল অংশ থেকে যে কোন রং সিলেক্ট করুন। আয়তক্ষেত্রটি সেই রঙে পরিবর্তিত হবে।
. লাইন কালার অংশ থেকে লাইনের জন্য রং সিলেক্ট করুন। লাইনটি সেই রঙে পরিবর্তিত হবে।
. ষ্ট্রোক লেখা অংশ থেকে লাইনের পুরুত্ব সিলেক্ট করুন।
. সাধারন এই বৈশিষ্ট ছাড়াও লাইনের ধরন, ষ্টাইল, অপাসিটি ইত্যাদি পরিবর্তন করে দেখতে পারেন।
এতক্ষনে আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন ফটোশপ ড্রইং এবং ইলাষ্ট্রেটর ড্রইং এর পার্থক্য কোথায়। ইলাষ্ট্রেটরে ড্রইং করার পর তাকে যে কোন ধরনের পরিবর্তন করা যায়।
রেকট্যাংগল টুলের বাকি বৈশিষ্টগুলি দেখে নেয়া যাক।
. রেকট্যাংগল আকার সময়Altচেপে ধরুন। ড্রাগ করা পয়েন্টকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে রেকট্যাংল তৈরী হবে।
. Shiftচেপে ড্রাগ করুন, বর্গক্ষেত্র তৈরী হবে।
. Shift + Altচেপে ধরে আকুন, কেন্দ্র থেকে বর্গক্ষেত্র তৈরী হবে।
. ড্রাগ না করে আর্টবোর্ডে ক্লিক করুন। মাপ টাইপ করে ড্রইং করার সুযোগ পাবেন।
ড্রইং এর পর পরিবর্তন
আপনি একবারে নিখুত মাপের আয়তক্ষেত্র বা বর্গক্ষেত্র তৈরী করবেন এমন কথা নেই। তৈরী পর বড়ছোট করা প্রয়োজন হতে পারে। কিংবা ঘুরোনো প্রয়োজন হতে পারে।
. সিলেকশন টুল সিলেক্ট করুন।
. ক্লিক করে রেকট্যাংগল সিলেক্ট করুন। চারটি কোনে একং চার বাহুর মাঝখানে হ্যান্ডলার পাওয়া যাবে। এগুলি ব্যবহার করে বড়-ছোট করার কাজ করা যাবে।
. মাউস পয়েন্টারকে হ্যান্ডলারের বাইরের দিকে আনুন। বাকানো চিহ্ন পাওয়া যাবে। এই অবস্থায় ড্রাগ করে অবজেক্টকে ঘুরানো যাবে।
আয়তক্ষেত্র ছাড়াও অন্যান্য যে সেপগুলি রয়েছে সেগুলির ব্যবহার উল্লেখ করা হবে আগামী টিউটোরিয়ালে।
- Blogger Comment
- Facebook Comment
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
0 comments:
Post a Comment