ভিডিওগ্রাফি টিউটোরিয়াল: ভিডিও যন্ত্রপাতি কিনবেন না ভাড়া নেবেন

বর্তমানে একটি ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা কিনে ফটোগ্রাফি এবং ভিডিও দুকাজে ব্যবহার করতে পারেন। মনে হতে পারে আরো সামান্য কিছু খরচ করলে ভিডিও কাজের জন্য যাকিছু প্রয়োজন সব নিজেই কিনে রাখা যায়। নিজের যন্ত্রপাতি থাকা সবসময়ই লাভজনক। প্রয়োজনের জন্য অন্যের কাছে যেতে হয় না, এজন্য আলাদা খরচ করতে হয় না। বিভিন্ন কারনে সবকিছু নিজের কেনা সম্ভব হয় না। দাম অবশ্যই একটি কারন। আপনি প্রফেশনাল গ্রেড ক্যামেরা, সাথে মাইক্রোফোন, লাইট ইত্যাদি কিনতে পারেন না। এরসাথে দক্ষ লোকবলের বিষয়ও রয়েছে। সেকারনে গড়ে উঠেছে অনেক রেন্টাল হাউস। প্রয়োজনের সময় ক্যামেরা সহ ক্যামেরাম্যান, লাইট সহ লাইট ইউনিট ভাড়া নিয়ে কাজ সারা যায়। কি কি কারনে নিজস্ব যন্ত্রপাতির চেয়ে ভাড়া যন্ত্রপাতি ব্যবহার সুবিধেজনক তুলে ধরা হচ্ছে এখানে। .ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার সবসময় ক্যামেরা এবং অন্যান্য আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয় না। সাধারনভাবে ফ্রিল্যান্সার কাজ করেন নিজের বাড়িতে। সেখানে কম্পিউটার রেখে এডিটিং প্যানেল হিসেবে ব্যবহার করা, ক্লায়েন্টকে প্রিভিউ দেখানো করা যায় খুব সহজে। এরসাথে অন্য যন্ত্রপাতি রাখার ব্যবস্থা করা কঠিন। এমন অবস্থায় প্রয়োজনের সময় ভাড়া করা যন্ত্রপাতিব্যবহার করা সুবিধেজনক। .বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্যিকারের ভাল ভিডিও যন্ত্রপাতি অত্যন্ত দামী। বিশেষ করে যখন অল্পটাকার কাজ করতে হয় তখন আয়ের তুলনায় বিনিয়োগ অনেক বেশি মনে হয়। সমাধান, যন্ত্রপাতি না কিনে ভাড়া নিয়ে কাজ করা। যারা নিয়মিত টিভ্রি অনুষ্ঠান তৈরী করেন তাদের অনেকেই ভাড়া নেয়া যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। .নতুন ব্যবসা আপনি ব্যবসা শুরু করছেন, ক্লায়েন্টের কাছে কাজ পেয়েছেন। এখন যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। শুরুতেই যন্ত্রপাতি না কিনে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। ব্যবসায় লাভের সুত্র হচ্ছে, লাভ = আয়–খরচ। আপনি যত আয় করছেন সেখান থেকে খরচ যত কমাবেন লাভ তত বেশি। .ক্লায়েন্টের বিশেষ প্রয়োজন সাধারনভাবে কাজ করার জন্য প্রচলিত যন্ত্রপাতি আপনার আছে। কোন ক্লায়েন্টের বিশেষ কোন কাজের জন্য বিশেষ কিছু প্রয়োজন। ধরুন হাজার ডলারের একটি লেন্স। ভাড়া নিয়ে কাজটি শেষ করতে পারেন। .অভিজ্ঞতার ঘাটতি কোন যন্ত্র হাতে থাকলেই সার্থকভাবে ব্যবহার করা যাবে এমন কথা নেই। ৩০ পাউন্ড ওজনের একটি ক্যামেরা কাধের ওপর রেখে দিনে ১০-১২ ঘন্টা কাজ করার কথা সাধারনভাবে কল্পনা করাও কঠিন। এজন্য সহজ সমাধান, ক্যামেরা এবং ক্যামেরাম্যান দুটির জন্য চুক্তি করা। একই কথা অন্যান্য যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রেও। .ক্লায়েন্টের চাহিদা ক্লায়েন্ট খুব সহজেই বলতে পারেন তিনি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক মানের ভিডিও চান। এধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বাদ দিলেও আরেকটি বড় পার্থক্য থেকে যায় তা হচ্ছে উচু মানের যন্ত্রপাতি। সনির পিডি-১৭০ এবং ডিএসআর-৪০০ ক্যামেরার দামের পার্থক্য যেমন বিশাল মানের পার্থক্যও বিশাল। ভাড়ার পরিমানও আলাদা। ক্লায়েন্টকে আগেই জানাতে পারেন তিনি কি পরিমান খরচ করবেন। ভাল মানের ভিডিওর জন্য ভাল ক্যামেরা প্রয়োজন হবে, সেজন্য খরচ বেশি হবে। .অন্য এলাকায় কাজ করা নিজের এলাকা থেকে দুরে কোথাও ভিডিও করা প্রয়োজন, সমস্ত যন্ত্রপাতি গাড়িভর্তি করে নিয়ে যেতে পারেন না। এরথেকে স্থানীয় ষ্টুডিওর সাথে যোগাযোগ করা সুবিধেজনক। কোন কাজের জন্য নিজস্ব যন্ত্রপাতি, কোন কাজের জন্য ভাড়া করা হবে এই হিসেব প্রতিটি কাজের জন্য পৃথকভাবে হিসেব করা যেতে পারে। এতক্ষন অন্যের কাছে যন্ত্র ভাড়া নিয়ে কাজের সুবিধের কথা উল্লেখ করা হল। এর বিপরীতে নিজেই রেন্টাল হাউজ ব্যবসা করলে সমস্যা কোথায়। ঢাকা শহরে বহু রেন্টাল হাউজ রয়েছে। চাহিদা আরো বেশি। এজন্য কাজের ধরন অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে হয়। সুবিধের দিক হচ্ছে, কাজের জন্য সরাসরি ক্লায়েন্টের কাছে কাজের জন্য যেতে হয় না। অনেক নির্মাতার জন্যই সরাসরি কাজ পাওয়া, কাজ করার পর টাকা ঠিকভাবে পাওয়া বড় সমস্যা।শুধুমাত্র পাওনা টাকা না পাওয়ার কারনে ব্যবসা থেকে সরে যাওয়ার ঘটনার অভাব নেই। রেন্টাল হাউজ ব্যবসা সেতুলনায় নিরাপদ কারন এখানে বাকির হিসেব রাখা হয় না।
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment