নিজের কষ্ট এড়িয়ে ভালবাসার জন্য আত্মত্যাগ

মাথায় রুক্ষ চুল আর গায়ে ময়লা চাদরটা পেঁচিয়ে নিয়ে রেললাইনের উপর দিয়ে হাটছে রিফাত। একসময় রেললাইনের উপর শুয়ে পড়ে সে। হাতে নির্ঝরের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে দু চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে তার।! দুদিন বাদে নির্ঝরের বিয়ে। সেই নির্ঝর, যাকে সে নিজের চেয়েও বেশি ভালবাসত রিফাত।। কিছু একটা ভেবে উঠে পড়ে রিফাত। নির্ঝরকে একটা ফোন দেয়া দরকার। --হ্যালো নির্ঝর ভাল আছ? = হুম -- প্লিজ আজকের দিনেও অভিমান করে থেক না, কিছুক্ষণ কথা বলেই ফোনটা রেখে দিব। আর কখখনো ডিস্টার্ব করব না তোমায়।। = আমায় পিচ্ছি টুনটুনি নামে ডাকবে না আর? --(রিফাতের গলায় কাদো কাঁদো ভাব) নাহ, আমার সেই পিচ্চি টুনটুনিটা এখন অনেক বড় হয়ে গেছে, দুদিন বাদে ওর বিয়ে। লাল বেনারসি পড়ে কিছুদিন পর সে চলে যাবে অন্যের ঘরে। এখন তাকে পিচ্চি টুনটুনি ডাকি কি করে বলো? ছাড়ো, তোমার হবু জামাই যেন কি করে? = ইঞ্জিনিয়ার, অস্ট্রেলিয়ায় থাকে।। --বাহ, ভাল তো। তুমি তো বিদেশী বর- ই চেয়েছিলে!যাক বাবা, happy ending তাহলে। = রিফাত, তুমি কি এখনো আমায় ভালবাস? -- মানে কি? আমি তোমায় ভালবাসব কেন? দুদিন বাদে তোমার বিয়ে। এখন কেউ এসব কথা বলে নাকি? তোমার বিয়েটা হয়ে যাক, তারপর দেখো একটা রাজকন্যা বিয়ে করে আনব। =সত্যিই তুমি আমায় ভালবাস না? তাহলে কাঁদছ কেন? --কই কাদছি না তো। চোখে কি যেন পড়েছে।। রিফাত আর নির্ঝরের রিলেশন ছিল 5 বছর। খুব ভালবাসত দুজন দুজনকে। হঠাত একদিন তাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি শুরু হল। দুরে সরে যেতে লাগল তারা। রিফাত ভাবত, ভুল ছিল নির্ঝরের। আবার নির্ঝর ভাবত ভুল ছিল রিফাতের। নিজেদের ইগোর কথা চিন্তা করে কেউ কারো খোজ-খবর নিত না। এদিকে বিয়ের জন্য চাপ বাড়তে থাকে নির্ঝরের উপর। বিয়েতে অমত থাকলেও রিফাতের উপর রাগ করেই বিয়েতে মত দিয়ে দেয় নির্ঝর।। = রিফাত তোমার সাথে কিছু কথা ছিল। -- হুম বল। আজকে আমি সারাদিন ফ্রি আছি। কাল হয়ত খুজেই পাবে না। যা বলার আজকেই বলে ফেল,, =এভাবে নয়, আজ বিকেলের দিকে দেখা করতে পারবা আমার সাথে? -- না সেটা সম্ভব নয়। = কেন সম্ভব নয়? -- তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দেই কি করে বলো তো, = ঠিক আছে উত্তর দিতে হবে না। রিফাত...... --শুনছি তো, বলো = চলো না পালিয়ে যাই.. কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল রিফাত- পালিয়ে যাই মানে? তোমার মাথা ঠিক আছে তো নাকি? দুদিন বাদে বিয়ে, আর উনি পালাবেন। হে হে, পাগলী একটা,, = এটা কিন্তু হাসি-ঠাট্টার সময় নয়। আমি কিন্তু সিরিয়াসলি বলেছি কথাটা। -- এই তুমি চুপ কর তো। সত্যিই পাগল হয়ে গেছ তুমি। একটা ফ্রেশ ঘুম দাও, সকালে দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে।। আর হ্যা, কাল সকাল 7 টায় একটা গিফট পাঠাব। ভাল থেক আর পারলে আমায় ভুলে যেও।। = রিফাত আমি....... নির্ঝর কিছু বলার আগেই ফোনটা কেটে দিল রিফাত।। রিফাতের ফোনটা বাজছে, মনে হয় নির্ঝরের ফোন। ফোন ধরার সময় নেই তার। আনমনে কি যেন ভাবছে আর রেললাইনের উপর হাটছে সে।। সকাল 7.00 টা,, বাসার কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভাংল নির্ঝরের। দরজা খুলতেই একটা red colour box চোখে পরে তার। দরজার সামনে red colour gift box দেখে চমকে উঠে সে। বুঝার বাকি রইল না, বক্সটা রিফাত-ই পাঠিয়েছে। হাটু গেড়ে বসে বক্সটা খোলার চেষ্টা করে নির্ঝর। বক্স খুলতেই চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে উঠে তার। বক্সের ভেতর একটা রক্তমাখা চিঠি আর একটা heart.. নির্ঝরের হাত কাঁপছে, মাথা ঘুরছে, মনে হয় senseless হয়ে পড়ে যাবে সে। নিজেকে কন্ট্রোল করে চিঠিটা খুললো নির্ঝর -- "কি পিচ্চি টুনটুনি, গিফট পছন্দ হয়েছে তো? কি বললে? গিফট পছন্দ হয় নি? কি করব বলো, আমার কাছে তো আর কিছু নেই দেওয়ার মত। তুমিই তো বলতে তোমার হার্টে সমস্যা, বেশিদিন বাচবে না তুমি। তাই আমার হার্টটাই দিয়ে দিলাম তোমায়। কি ব্যাপার তুমি কাঁদছ কেন? একদম কাদবে না বলে দিলাম। যখন তুমি খুশি হবে তখন আমার হার্ট টাও সুখি হবে, যখন তুমি হাসবে তখন আমার হার্ট টাও হাসবে, কিন্তু যখন তুমি কাদবে তখন আমার হার্টটা খুব কষ্ট পাবে। আমার কথা ভেবে একদম কষ্ট পেও না, ভাল থেক। আর হ্যা, তোমায় খুব ভালবাসি।"
Share on Google Plus

About K. M. Emrul Hasan

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment